ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ – জেনে নিন রাশিয়ার ভেন্যু এবং শহরগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য

অনেক প্রতিক্ষার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এর পর্দা উঠতে আর মাত্র কিছু ঘণ্টা বাকি আছে। স্বাভাবিকভাবেই আয়োজক দেশ রাশিয়াতে সাজ সাজ রব পরে গেছে। সব ভাবে তারা প্রস্তুত ৩২ টি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে আসা ৩২ টি টিম কে স্বাগত জানাতে। এছাড়া সাথে আসবে বিপুল পরিমান সৌভাগ্যবান নানা দেশীয় দর্শক যারা স্টেডিয়ামে খেলা দেখার জন্যে টিকিট কেটেছেন। স্পুটনিক নিউজের হিসাব মত এখন পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এর প্রায়  ১.৪ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও বিক্রি হবে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে সেচ্ছা সেবকদের দল আসবেন। সব মিলিয়ে একটা জনস্রোত বয়ে যাবে রাশিয়ার উপর দিয়ে।

এত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে এর আগে কোন বিশ্বকাপের আয়োজন হয়নাই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এ সবমিলে ৬৫ টি ম্যাচে অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য ১১ টি শহর নিয়ে এবারের বিশকাপের ভেন্যু সাজানো হয়েছে। এই বিশাল দূরত্ব নিয়ে যেন আগত দর্শকদের কোন রকম সমস্যা না হয় এজন্যে রাশিয়া সরকার ইতিমধ্যে চমৎকার একটি ঘোষণা দিয়েছেন। সেটা হল, টিকিট কেটেছেন এমন সব দর্শকদের জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে যাবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রেনের টিকিট প্রদান করা হবে। এই চমৎকার ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট সবাই অনেক আনন্দিত।

রাশিয়ার ১১ টি শহর মানে প্রায় ১১ ধরনের সংস্কৃতিই বলা যায়। কারন এটা রাশিয়া। এই শহরগুলোর মধ্যেকার দূরত্ব ইউরোপে এক দেশ থেকে আরেক দেশের দূরত্বের চাইতে কম না বরং বেশীই হবে! তাই স্বাভাবিক ভাবেই এই শহরগুলোর জীবন যাত্রা ও সংস্কৃতি তে কিছুটা পার্থক্য থাকবেই। আসুন তাহলে সংক্ষেপে এই শহরগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এর আয়োজক শহরগুলো

যে ১১ টি শহরে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এর খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে সেগুল হলঃ

১। মস্কো

২। সেন্ট পিটারসবার্গ

৩। সচি

৪। একাতেরিন বার্গ

৫। সারান্সক

৬। রস্তভ – অন – ডন

৭। কাজান

৮। ক্যালিনিন গ্রাদ

৯। সামারা

১০। ভলগো গ্রাদ

১১। নিঝনি নভো গোরোদ

 

 

১। মস্কো

রাজধানী এবং রাশিয়ার সবচাইতে বড় ও প্রসিদ্ধ শহর হিসেবে মস্কোর নাম প্রথমেই চলে আসে। শুধু বিশ্বকাপ বলে নয়, অন্য যেকোন সময়েও মস্কো পর্যটকদের প্রিয় শহরের তালিকায় থাকবেই। ১৬.৮ মিলয়ন মানুষের বাস এই শহরে। ষোড়শ শতাব্দীর গির্জা থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সুউচ্চ ভবন, কারুকাজময় মসজিদ সবই পাবেন এখানে। রাশিয়ার প্রধান শহরটি শুধু রাশিয়া না, ইউরোপের সবচাইতে বড় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। এমনকি সীমারেখার বিবেচনায় পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে বড় শহর মস্কো।

এখানে ইউরোপের সব থেকে উঁচু ভবন ও স্থাপত্যও গুলো দেখতে পাবেন। এর মধ্যে আছে ওস্তানকিনো টাওয়ার ও ইউরোপের সর্বচ্চ ভবন ফেডারেশন টাওয়ার। এছাড়া ইউরোপের দ্বিতীয় থেকে শুরু করে সপ্তমতম উচ্চ স্থাপনা গুলোর সবই আছে মস্কো বিজনেস সেন্টার নামক বানিজ্যিক এলাকায়।

লুঝনিকি স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
লুঝনিকি স্টেডিয়াম, মস্কো। সুত্রঃ Stadium Guide

মস্কোতেই আছে রাশিয়ার বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম লুঝনিকি স্টেডিয়াম। ১৯৫৬ সালে স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি লুঝনিকি অলিম্পিক কমপ্লেক্স এর একটা অংশ। এই স্টেডিয়াম রাশিয়ার বৃহত্তম এবং ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ একটি স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারন ক্ষমতা রাশিয়ার মধ্যে সবথেকে বেশী। এখানে ৮১,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা দেখতে পারবেন। ১৯৮০ সালের রাশিয়ান অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী এবং সমাপনি আয়োজন এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল

সঙ্গত কারনেই উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল ম্যাচ দুটোই অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে। দুটি সেমিফাইনালের একটি অনুষ্ঠিত হবে এখানে। মোট ৭ টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্বের খেলায় অংশ নিবে স্বাগতিক রাশিয়া, জার্মানি, মেক্সিকো, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সৌদি আরব ও মরক্কো।

স্পারটাক স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
স্পারতাক স্টেডিয়াম, মস্কো। সুত্রঃ Stadium Guide

মস্কো তে দুইটি স্টেডিয়ামে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, লুঝনিকি এবং স্পারটাক স্টেডিয়াম। স্থানীয় ভাবে স্পারটাক স্টেডিয়ামটি ‘অতক্রিতি এরিনা’ হিসেবেও পরিচিত। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়। তৈরিতে খরচ পরে ৪৩০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার। এখানে ৪২,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এখানে বিশ্বকাপের মোট ৫ টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের দুই জায়ান্ট ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা উভয়কেই খেলতে দেখা যাবে এই মাঠে যথাক্রমে সার্বিয়া ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

 

 

২। সেন্ট পিটারসবার্গ

‘পশ্চিমের জানালা’ হিসেবে খ্যাত সেন্ট পিটারসবার্গ রাশিয়ার অন্যতম সুন্দর এবং প্রভাবশালী একটি শহর। এই শহরকে রাশিয়ার শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু বলা চলে। শুধু রাশিয়া না, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লেখক, কবি এবং শিল্পীদের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য সেন্ট পিটারসবার্গ। ১৭০২ সালে রাশিয়ার জার পিটার দি গ্রেট এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারে এর নামকরন করা হয়। প্রায় ২ শতাব্দীরও বেশী সময় ধরে সাম্রাজ্যের রাজধানীও ছিল এই শহর। নেভা নদীর পাশে এবং বালটিক সাগরের তীরবর্তী হবার কারণে শহরটি বানিজ্যের জন্য বেশ ভাল অবস্থানে আছে।

সেন্ট পিটারসবার্গ স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
সেন্ট পিটারসবার্গ স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম হল সেন্ট পিটারসবার্গ স্টেডিয়াম। ৬৭,০০০ দর্শক ধারন ক্ষমতা সম্পন্নও স্টেডিয়ামটি একেবারেই নতুন। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ উপলক্ষে তৈরি করা এই স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৭ সালে। এখানে বিশ্বকাপের মোট ৭ টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী টিম গুলোর মধ্যে আছে দুই ফুটবল জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এছাড়া একটি সেমিফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

৩। সচি

সচি নামটি মস্কো বা সেন্ট পিটারসবার্গ এর মত ব্যাপক জনপ্রিয় না হলে শহরটি অনেক চমৎকার। খোদ রাশিয়ানদের কাছে এই শহরটি অনেক প্রিয় এবং ছুটি কাটাতে তারা এই শহর ভ্রমণ করে থাকেন। কৃষ্ণ সাগরের পাশে অবস্থিত এই শহরটিতে পর্যটকদের অনেক আনাগোনা থাকে প্রায় বছর জুড়েই। সচিতে এর আগেও অনেক ক্রীড়া বিষয়ক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে যেমন ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক।

ফিষ্ট স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
ফিষ্ট স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকের জন্য এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয় ২০১৩ সালে। এখানে ৪৮,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা দেখতে পারবেন। এখানে সব মিলে ৬ টি  খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পর্তুগাল, স্পেন, জার্মানি ও সুইডেনের মত বড় দলের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রথম কোয়ারটার ফাইনালও এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

৪। একাতেরিন বার্গ

একাতেরিন বার্গ রাশিয়ার আরেকটি প্রসিদ্ধ শহর। রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহরটি ১৭২৩ সালে পিটার দ্য গ্রেট দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শহরটি পিটার তাঁর স্ত্রি এর সম্মানে তৈরি করেন। পরবর্তীতে বলশেভিক বিপ্লবের পর জার নিকলাস ও পরিবারকে এখানে নির্বাসন দেয়া হয়। চমতকার এই শহরে আছে ১৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে।

একাতেরিন বার্গ এরিনা স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
একাতেরিন বার্গ এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

১৯৫৭ সালে একাতেরিন বার্গ এরিনা স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ধারন ক্ষমতা ববর্তমানে ৩৫,০০০।  বিশকাপের ৪ টি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ফ্রান্স, জাপান, মেক্সিকো ও সুইডেন এর খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

 

রাশিয়ার এয়ার টিকিট কেটে নিন ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে

 

৫। সারান্সক

মরদভিক রিপাব্লিকের রাজধানী সারান্সক আয়তনে খুব বেশী বড় না। মাঝারি এই শহরে ৩০০,০০০ লোকের বসবাস। এখানকার প্রাসাদ গুলোতে সোভিয়েত এবং ক্ল্যাসিক স্টাইলের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। লেনিন আইকন গ্রাফি, অর্থোডক্স গির্জা এবং সুসজ্জিত মসজিদের পাশাপাশি অবস্থান আপনাকে মুগ্ধ করবে।

মরডোভিয়া এরিনা স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
মরডোভিয়া এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

সারান্সকের এই স্টেডিয়ামটি একেবারে নতুন। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ কে মাথায় রেখে তৈরি করা অনেকগুলো স্টেডিয়ামের মধ্যে এটা অন্যতম। বিশকাপের সময়েই এর উদ্বোধন করা হবে। এখানে ৪৫,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। গ্রুপ পর্বের চারটি খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে আছে  পেরু, ডেনমার্ক, জাপান ও পর্তুগাল।

 

 

 

৬। রস্তভ – অন – ডন

ডন নদীর পাশে অবস্থিত এই চমৎকার শহরটি রাশিয়ার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো এই শহরটিতে গত শতকের মধ্যে বেশ উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় বড় কোম্পানির প্রধান শাখা স্থাপিত হয়েছে এই শহরে। এছাড়া রাশিয়ার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এই শহরে অবস্থিত।

রস্তভ এরিনা স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
রস্তভ এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

এই স্টেডিয়ামটিও রাশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এর নতুন স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর দর্শক ধারন ক্ষমতা ৪৫,০০০। বিশ্বকাপ চলাকালিন সময়েই এর উদ্বোধন করা হবে। গ্রুপ পর্বের ৪ টি এবং সুপার ১৬ পর্বের ১ টি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী টিম গুলোর মধ্যে আছে ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোরিয়া, মেক্সিকো, এবং ক্রয়েশিয়া।

 

 

 

৭। কাজান

রাশিয়ার অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত শহর এই কাজান। তারতারস্থানের রাজধানী এই শহরটি যেন রাশিয়ার ধর্মীয় এবং সংস্ক্রিতিক ব্যাপকতার প্রতিক। এখানে দারুণ কারুকাজে সমৃদ্ধ সব মসজিদ ও গির্জা রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধর্মের লোকজন বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে বেশ সম্প্রিতি ও একতা রয়েছে। খেলাধুলার দিক থেকে কাজান বেশ এগিয়ে আছে।

কাজান এরিনা স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
কাজান এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

কাজান এরিনা স্টেডিয়াম এর নির্মাণ কাজ ২০১৩ সালে শেষ হয়। এটি মুলত নির্মাণ করা হয় রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের জন্য। ২০১৭ সালে ফিফা ফেডারেশন কাপ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখন একে প্রস্তুত করা হয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য। এই স্টেডিয়াম ৪৫,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এখানে আছে ইউরোপের বৃহত্তম স্ক্রিন যা স্টেডিয়ামের বাইরে স্থাপন করা আছে। এখানে গ্রুপ পর্বের ৫ টি এবং ১ টি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

৮। ক্যালিনিন গ্রাদ

ক্যালিনিন গ্রাদের অবস্থান পোল্যান্ড এবং লিথুনিয়ার মাঝখানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাশিয়া ক্যালিনিন গ্রাদের দখল পায়। এজন্যে এখানকার বেশিরভাগ স্থাপনা ও অট্টালিকা গুলোতে জার্মান স্থাপত্যও শৈলীর চিহ্ন পাওয়া যায়। এই শহরটি প্রাকৃতিক ভাবে বেশ সমৃদ্ধ। এখানে মৎস্য বেশ ভাল একটি কেন্দ্রও রয়েছে। এছাড়া এই শহর অলঙ্কার তৈরির জন্যেও বিখ্যাত।

ক্যালিনিন গ্রাদ স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
ক্যালিনিন গ্রাদ স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ কে সামনে রেখে ক্যালিনিন গ্রাদ স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। ২৫৭ মিলিয়ন ইউরো ব্যায়ে তৈরি এই অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামে ৩৫,২১২ জন দর্শক এক সাথে বসে খেলা দেখতে পারবেন। গ্রুপ পর্যায়ের চারটি খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে আছে ইংল্যান্ড, স্পেন সার্বিয়া, বেলজিয়াম ইত্যাদি।

 

 

 

৯। সামারা

ভলগা নদীর পাশে গড়ে ওঠা এই শহরটি একসময় ছিল একটি দুর্গ। বর্তমানে সামারাকে বলা হয় রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্রস্থল। রাশিয়ান মহাকাশ গবেষণায় অনেক অবদান রাখা কুইবিশেভ এভিয়েশন ইন্সটিটিউট এখানেই অবস্থিত। আগে এখানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইন্সটিটিউট টি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। সামারা তে বেশ কিছু চমৎকার সৈকতও আছে। এছাড়া ভলগা নদীর সৌন্দর্য তো রয়েছেই।

সামারা এরিনা স্টেডিয়াম

সামারা এরিনা স্টেডিয়াম
সামারা এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করা নতুন স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এটা একটা। এর দর্শক ধারন ক্ষমতা ৪৫,০০০। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ চলাকালিন এর  উদ্বোধন করা হবে। এই স্টেডিয়ামের আসল নাম কসমস এরিনা। কিন্তু বিশ্বকাপ উপলক্ষে এর নামকরন করা হবে সামারা এরিনা। বিশ্বকাপ শেষে ৩২০ মিলিয়ন ইউরো ব্যায়ে তৈরি করা এই স্টেডিয়ামটি ব্যাবহার করা হবে রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলা গুলোর জন্যে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ৫ টি খেলা এবং ১ টি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

**৩০ জুন পর্যন্ত ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে টিকিট কিনে উপভোগ করুন ফ্রি হোটেল ও ইবিএল স্কাই লাউঞ্জ। বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন**

 

 

১০। ভলগো গ্রাদ

একসময়ে স্তালিন গ্রাদ হিসেবে পরিচিত ভলগো গ্রাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। শুধু রাজনিতিই না, বরং ব্যাবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রও হিসেবে এর যথেষ্ট পরিচিতি আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিখ্যাত রক্তক্ষয়ী স্তালিন গ্রাদ যুদ্ধ এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নগরীটির অবস্থান বিখ্যাত ভলগা নদীর পাশে। ব্যাবসা বানিজ্যের জন্য এটা একটা ভাল অবস্থান। এজন্যে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প এলাকায় পরিনত হয়েছে ভলগো গ্রাদ।

ভলগো গ্রাদ এরিনা স্টেডিয়াম

সামারা এরিনা স্টেডিয়াম
ভলগো গ্রাদ এরিনা স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

আরও একটি নতুন স্টেডিয়ামের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ তে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে ১৭ বিলিয়ন রুবেল ব্যায়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম। এর দর্শক ধারন ক্ষমতা ৪৫,০০০ এর কিছু বেশী। ভলগা নদীর পাশে অনেক চমৎকার একটি পরিবেশে এই স্টেডিয়ামটি অবস্থিত। গ্রুপ পর্যায়ের চারটি খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশ গুলোর মধ্যে আছে ইংল্যান্ড, নাইজেরিয়া, জাপান, পোল্যান্ড, আইসল্যান্ড ইত্যাদি।

 

 

 

১১। নিঝনি নভো গোরোদ

নিঝনি নভো গোরোদ রাশিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম শহর। স্থানিয়দের কাছে এই শহর নিঝনি নামে পরিচিত। নিঝনিকে বলা হয় রাশিয়ার তথ্যও ও প্রযুক্তির রাজধানী। আইটি, সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে জড়িত সব বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাখা সাধারণত এই শহরেই অবস্থিত। এছাড়া এই শহরে বেশ কিছু প্রাচীন গির্জা ও আশ্রম রয়েছে।

নিঝনি নভো গোরোদ স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
নিঝনি নভো গোরোদ স্টেডিয়াম। সুত্রঃ Stadium Guide

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিঝনিতে তৈরি হয়েছে নতুন স্টেডিয়াম। রাশিয়ার দুইটি প্রধান নদী ভলগা এবং ওকা এর সংযোগ স্থলে গড়ে উঠেছে ৪৫,০০০ দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের পরে এই স্টেডিয়ামটি সাধারণত রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ব্যাবহার করা হবে। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ এরগ্রুপ পর্বের চারটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সুপার ১৬ পর্বের ১ টি এবং ১ টি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। অংসগ্রহনারি দলগুলোর মধ্যে আছে আর্জেন্টিনা, সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া, কোরিয়া, ইংল্যান্ড এবং কোস্টা রিকার মত বিখ্যাত দলগুলো। এখানে গ্রুপ পর্বেই আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া ও সুইডেন বনাম কোরিয়ার মত বড় কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Flights From Dhaka To Las Vegas
Previous post
ঈদ ভ্রমনঃ দীর্ঘ ভ্রমণে ট্রাফিক জ্যাম ও অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলার কিছু টিপস
Next post
Reviewed by 46 People. - Rated: 4.0 / 5.0