fbpx
ট্রাফিক জ্যাম

ঈদ ভ্রমনঃ দীর্ঘ ভ্রমণে ট্রাফিক জ্যাম ও অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলার কিছু টিপস

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ অংশ আমরা অতিক্রম করছি। রমজানের শেষ অংশ আমাদের মাঝে চলে আসার সাথে সাথেই আমাদের মাঝে বাড়ী ফেরার একটি উৎসাহী প্রবণতা কাজ করা শুরু করে। আমরা যারা শহরে কাজের প্রয়োজনে থাকি, তারা একটা সুযোগ পেয়ে যাই কিছুদিনের জন্যে হলেও গ্রামের বাড়ির প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে একটু ঘুরে আসার, প্রিয় মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখে আসার। সবার সাথে দেখা হলে ঈদের আনন্দ যেন কয়েকগুন বেড়ে যায়।

ঈদের সময় এলেই এই ইচ্ছাটা সবার মাঝেই ছড়িয়ে পরে। তাই ঈদের সময় প্রচুর লোক এক সাথে ঢাকা ত্যাগ করে যার যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। স্বাভাবিক ভাবেই যানবাহন এবং রাস্তার উপর প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট এবং সেই সাথে নানা ধরনের ভোগান্তি। দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম মোকাবেলায় আপনার কি করনীয় এ নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট।

ট্রাফিক জ্যাম
ঈদের রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম থাকাটাই যেন স্বাভাবিকতায় পরিনত হয়েছে

বাংলাদেশের আভ্যান্তরিন ভ্রমণ

আমাদের দেশের লোকজন সাধারণত  বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও গাড়ি এই তিনটি মাধ্যমে যাতায়াত করে থাকে। এর মধ্যে বাসে সবচাইতে বেশী মানুষ যাতায়াত করে। ট্রেনেও প্রচুর লোক যাতায়াত করে তবে সব গন্তব্যে ট্রেন যায়না বলে বাসই শেষ ভরসা হয়ে দাড়ায়। অনলাইনে বাস এবং লঞ্চের টিকিট কাটতে পারেন এই সাইট থেকেঃ https://www.shohoz.com/

অবশ্য বর্তমানে আকাশপথে ভ্রমণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মুলত ট্রাফিক জ্যাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণ করা যায় বলে বিমান যাত্রার প্রতি মানুষ বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে। এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোও গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য ভাড়া হ্রাস, বিভিন্ন ডিসকাউণ্ট সহ নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে। অল্পকিছু খরচ বেশী হলেও নিরাপদ, দ্রুত এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য মানুষও এখন বিমান ভ্রমণের প্রতি আগের চাইতে বেশী ঝুকছেন।

ট্রাফিক জ্যাম
কিছু খরচ বেশী হলেও বিমান যাত্রা অনেক দ্রুত এবং আরামদায়ক

অনলাইনে যেকোন গন্তব্যের বিমান টিকিট কেটে নিতে পারবেন এই সাইট থেকেঃ https://www.flightexpert.com/

বর্তমানে বাংলাদেশের রাস্তা এবং যানবাহনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চোখ বুজে বলে দেয়া সম্ভব যে আপনার গন্তব্যও যেখানেই হোক, ঈদে বাড়ী যেতে হলে আপনাকে দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামে পড়তেই হবে। তাই এটা ধরে নিয়েই আপনাকে রাস্তায় বের হতে হবে। সেজন্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

দীর্ঘ ভ্রমণে ট্রাফিক জ্যাম ও অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলার কিছু টিপস

সড়ক পথে ভ্রমণ করলে ট্রাফিক জ্যাম হয়তো এড়ানো সম্ভব না। তবে কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে যেন ট্রাফিক জ্যাম কালীন সময় গুলো আরও কিছুটা সহনিয় হয়। এরকম কিছু টিপস আমরা দিয়ে দিচ্ছি।

১। বাসা থেকে বের হবার সময় হালকা কিছু খাবার এবং পানি সাথে নিয়ে বের হবেন। শুকনো খাবারই ভ্রমণের ক্ষেত্রে সুবিধা জনক। সে ক্ষেত্রে হাত ধোওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। খাবার পানির বোতলের মুখ যেন ভালভাবে আটকানো থাকে।

২। যেহেতু এখন গরমের দিন, তাই সব চাইতে ভাল হয় যদি বের  হবার আগে গোসল করে বের হতে পারেন। তাহলে অনেকটাই স্বস্তি বোধ করবেন।

৩। দীর্ঘ সময় বাস বা গাড়িতে বসে থাকলে আপনার অস্বস্তি বোধ হতে পারে। একে বলা হয় ‘কার সিকনেস’। এটা এড়াতে সিটে বসেই হালকা নড়াচড়া করুন। লম্বা করে একটা শ্বাস নিন। পা দুটো একটু টান করে নিন। সময়টা যদি দিনের বেলা হয় আর জ্যাম যদি অনেক সময় ধরে আটকে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে একটু নীচে নেমে হেঁটে আসলে ভাল লাগবে। তবে সাবধান, রাতের বেলা মোটেও বের হবেন না।

৪। সময় কাটে এমন কোন কাজে মন দিতে পারেন। সেটা হতে পারে গান শোনা, বই পড়া, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, বিভিন্ন চ্যাটিং মেসেঞ্জার ব্যাবহার করা, গেমস খেলা, আড্ডা দেয়া বা অন্য যেকোন কিছু। তবে খেয়াল রাখবেন যেন পাশের যাত্রীর কোন সমস্যা না হয়।

৫। বাসা থেকে বের হবার সময় আপনার মোবাইল ফোনটি ফুল চার্জ দিয়ে নিবেন। পাওয়ার ব্যাংক থাকলে খুব ভাল হয়। সেটিও ফুল চার্জ দিয়ে সাথে নিয়ে নিবেন। অতিরিক্ত সময় গাড়িতে থাকার কারণে মোবাইল ব্যাবহারের পরিমান বেড়ে যায়, তাই অতিরিক্ত চার্জের প্রয়োজন হতে পারে।

৬। বাসে বা গাড়িতে ভ্রমণের সময় অনেকের বমির সমস্যা থাকে। ঝাকুনিতে বা অন্য কোন কারণে বমি হলে যাত্রী নিজে এবং পাশের সহযাত্রীও অনেক অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েন। তাই এই ধরনের অবস্থা এড়াতে আগে থেকেই বিসমাসিড বা পেপটো কেয়ার জাতীয় ওষুধ কাছে রেখে দিন।

৭। ভ্রমণের সময় অনেকের মাথা ব্যাথা হতে পারে। এজন্যে কিছু প্যারাসিটামল কাছে রেখে দিতে পারেন।

৮। আপনি যে পথেই ভ্রমণ করেন না কেন, সব সময় নির্দিষ্ট অফিশিয়াল কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করবেন। বাইরের লোকজনের কাছ থেকে, যেমন ব্লাক টিকিট বিক্রেতার কাছ থেকে কখনও টিকিট নিবেন না বা কোন ধরনের ডিল করবেন না।

৯। চলতি পথে অপরিচিত লোকের দেয়া কোন খাবার খাবেন না বা কোন জিনিস ব্যাবহার করবেন না। অপরিচিত কারও সাথে খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলাই ভাল হবে।

১০। সব সময় চেষ্টা করবেন ভাল কোম্পানির বাসে টিকিট করতে। বড় কোম্পানির বাস গুলোর ভাল যত্ন নেয়া হয়। এজন্য ইঞ্জিন, সিট, ইত্যাদি ভাল থাকে এবং ভ্রমণ ও আনন্দময় ও নিরাপদ হয়ে থাকে। এছাড়া বড় বাস কোম্পানি গুলো দক্ষ ড্রাইভার এবং সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে থাকে।

১১। সবসময় চেষ্টা করবেন বাসের মাঝা মাঝি সিট নিতে। কোন দুর্ঘটনা হলে সেক্ষেত্রে সামনের দিকটা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার বেশী পিছনের দিকে বেশী ঝাকুনি লাগে। তাই বাসের মাঝখানের দিকে সিট নেয়াটাই বেশী ভাল।

১২। ভ্রমণের সময় টাকা পয়সা এবং মুল্যবান জিনিস সাথে যত কম রাখা যায় ততই ভাল। তবে অনেকসময় এ নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। তাই টাকা পয়সা এবং মুল্যবান জিনিস বহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টাকা পয়সা, গহনা, ক্রেডিট কার্ড, ইত্যাদি সব একজায়গায় রাখবেন না, আলাদা বিভিন্ন জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন।

১৩। বাস চলার সময় হর্ন সহ আরও বিভিন্ন শব্দ আপনাকে বিরক্ত করতে পারেন। এগুলো থেকে বাচতে হলে নয়েজ – ক্যান্সেলিং হেডফোন সাথে রাখুন। বাসের জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে গান শুনতে বেশ ভালই লাগে।

১৪। ভাল ভাবে সময় পার করতে চাইলে আসলে ঘুমের কোন বিকল্প নাই। ভালভাবে ঘুমিয়ে ভ্রমণটা পার করতে পারলে ভ্রমণ জনিত ক্লান্তিও এড়ানো সম্ভব। ভাল ঘুম নিশ্চিত করতে নেক পিলও (Neck Pillow), ইয়ার প্লাগ এবং আই মাস্ক সাথে রাখতে পারেন।

আশা করবো এই টিপস গুলো থেকে সবাই কোন না কোন উপকার পাবেন। পরিশেষে আপনার নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ কামনা করছি। আশা করব সবাই নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে পৌছাতে পারবেন। সবাইকে জানাচ্ছি অগ্রিম ঈদ মুবারাক।

Comments
Posts created 258

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top