ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যাবহারে সতর্কতা | ফ্রি ওয়াইফাই এর নিরাপত্তা টিপস

ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যাবহার করতে কার না ভাল লাগে! বিমান যাত্রীদের সুবিধার্থে সাধারণত সব এয়ারপোর্ট, লাউঞ্জ, হোটেল ইত্যাদি জায়গা গুলোতে ফ্রি ওয়াই ফাই এর সুব্যাবস্থা থাকে যা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য। কিন্তু এসব ওয়াই ফাই আপনার অনলাইন অবস্থানের জন্য কতটুকো নিরাপদ সেটাও একবার ভেবে দেখা উচিৎ। আপনি যদি ফ্রি অথবা পাবলিক ওয়াই ফাই ব্যাবহার করেন, সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য সমুহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই ফাই ব্যাবহার করলে সেক্ষেত্রে সবচাইতে বড় যে সমস্যাটি হতে পারে সেটি হল আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য এবং আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং হিস্টোরি চুরি হওয়া। ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যাবহার করে আপনি যেসব ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট ব্যাবহার করবেন, সেটা অন্য কেউ ইচ্ছা করলেই অন্য কেউ দেখে নিতে পারবে। শুধু তাই না, আপনার ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপ বা জি মেইলের মত গুরুত্বপূর্ণ একাউন্ট গুলোর পাসওয়ার্ড সহ লগইন ডিটেইলস বেহাত হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। আর অনলাইন এ লেনদেন করলে সেক্ষেত্রে আপনার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পিন নম্বর সহ অন্যান্য তথ্যাদিও চুরি হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আমি বলছি না যে ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যাবহার করলেই এসব তথ্য চুরি হয়ে যাবে। তবে তথ্য গুলো অনেকের কাছেই উম্মুক্ত হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে কেউ ইচ্ছা করলেই আপনার তথ্য ব্যাবহার করে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে, যা কারই কাম্য নয়।

এই অবস্থা এড়াতে আমাদের সবারই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। প্রযুক্তি যেমন আমাদের নিত্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত, সেই সাথে চলে আসছে নতুন কিছু সমস্যা, যেগুলোর কথা হয়তো আমরা এখনো সেভাবে ভাবছি না। কিন্তু সমস্যা গুলো সত্য এবং এর প্রতিরোধের চিন্তা শুরু করা উচিৎ এখনি। এখন আমরা আপনাদের কিছু টিপস দেব যেগুলো অবলম্বন করে আপনারা পাবলিক বা ফ্রি  ওয়াইফাই ব্যাবহারের ঝুকি কমাতে পারবেন। এখানে বলে রাখা ভাল যে এইসব উপায় আপনার নিরাপত্তা ঝুকিকে কমিয়ে দিবে কিন্তু আপনাকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারেবে না।

ওয়াই ফাই

 

পাবলিক বা ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যাবহারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

১। ব্যাবহার নিয়ন্ত্রন করা

গান শোনা, সিনেমা দেখা ও ব্লগ পড়া বাদে উন্মুক্ত স্থানের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অন্য কোনো কাজ না করাই ভালো। যেমন ফ্রি ওয়াই-ফাই চালিয়ে কখনোই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কাজ করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাবহার এড়িয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ইমেইল বা স্কাইপেও লগিন না করাটাই নিরাপদ হবে।

 

২। উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক বনাম আংশিক উম্মুক্ত নেটওয়ার্ক

সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত নেটওয়ার্কের বদলে সম্ভব হলে আংশিক উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা উচিত। রেস্তোরাঁয় বা এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে পাসওয়ার্ড উন্মুক্ত অবস্থায় থাকলে তা ব্যবহার না করাই ভালো। যেমন যে সমস্ত জায়গায় সবার জন্য উম্মুক্তভাবে পাসওয়ার্ড লেখা থাকে, সে সব স্থানের ওয়াইফাই ব্যাবহার বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার কিছু জায়গা আছে যেখানে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা / কর্মচারীর কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড জেনে নিতে হয়। যেসব জায়গায় অন্যের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড জেনে নিতে হয় সেখানকার ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা কিছুটা নিরাপদ। তবে পুরোপুরি নিরাপদ না।

 

৩। ফাইল শেয়ারিং

ইন্টারকানেক্টেড অ্যাপগুলোর ফাইল শেয়ারিংয়ের অপশন বন্ধ রাখা উচিত। এতে ব্যক্তিগত ফাইলগুলো নিরাপদ থাকবে।

 

৪। ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখা

অনলাইনের কাজ শেষ হয়ে গেলে ওয়াই-ফাই অফ করে রাখাই ভালো। এতে আপনার ডিভাইস সুরক্ষিত থাকবে এবং অনুপ্রবেশকারীরা কোন সুবিধা করতে পারবে না। এছাড়া ওয়াই ফাই বন্ধ করলে আপনার ডিভাইসের চার্জও বেচে যাবে সে কথা বলাই বাহুল্য।

৫। অ্যান্টিভাইরাস

অরক্ষিত উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ইন্সটল করে নিতে পারেন। এখানে বেশ কিছু ভাল এন্টিভাইরাসের নাম পাবেনঃ https://www.techradar.com/best/best-antivirus

 

৬। ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করা

অনেক সময় ফ্রি ওয়াইফাইতেই আমাদের অনেক কাজ শেষ করতে হয় এবং এছাড়া অন্য কোন উপায়ও থাকেনা। সেক্ষেত্রে ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে ব্যাংকিংয়ের কাজ বা অন্য কোনো কাজ করতে গেলে অবশ্যই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করতে হবে। এটি যে কোনো ধরনের ফিল্টারিং বা ওয়েবসাইট ব্লকিং এড়িয়ে যায়। এর ফলে কোনো ঝুঁকির পরিমান কিছুটা কমে যায়।

৭। মোবাইল ডাটা

পাবলিক ওয়াইফাই এর ক্ষতিকর দিক গুলো থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল নিজের রাউটার বা মোবাইল ডাটা ব্যবহার করা। সমস্যাযুক্ত ফ্রি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার চেয়ে নিজের মোবাইল ডাটা ব্যবহার করাই ভালো। এক্ষেত্রে কেউ আর আপনার মুল্যবান তথ্য চুরি করতে পারবে না এবং আপনার প্রাইভেসি থাকবে সুরক্ষিত।

 

৮। ব্যাবহার সীমাবদ্ধ রাখা

যারা ১০০% নিরাপত্তা আশা করে থাকেন, তাদের পরামর্শ দেব ফ্রি বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার না করার। দরকার হলে মোবাইল ডাটা ব্যাবহার করুন। মোবাইল এর সিগনাল ভাল না থাকলে অন্য কোন কাজ করে সময়টা পার করতে পারেন। গান শুনতে পারেন বা বই পড়তে পারেন। দেখবেন সময়গুলো একেবারে খারাপ কাটছে না।

যেকোন এয়ারলাইন্সে বিমান টিকিট বুকিং এবং বিমান ভ্রমণ সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে ফোন করুন এই নম্বরেঃ +৮৮-০৯৬১৭-১১১-৮৮৮ অথবা ০১৮৪৭-২৯১-৩৮৮ অথবা ভিজিট করুনঃ www.flightexpert.com

আপনাদের বিমান ভ্রমণ শুভ হোক।

তথ্য সুত্রঃ

১। টেকশহর-আইটি ডেস্ক

২। দৈনিক যুগান্তর – আইটি ডেস্ক

Book Cheap Air Tickets Now

Blogger. Music enthusiast. Free thinker.

Assistant Manager
Flight Expert.

www.flightexpert.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টার্কিশ এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ | ভ্রমণ করুন ইউরোপের সেরা এয়ারলাইন্সে
Previous post
Top Attractions In Halifax
Next post